রাজ্যের মন্ত্রীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচে নিয়ন্ত্রণ আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এবার থেকে রাজ্যের বাইরে কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি এবং ‘দ্য কলকাতা গেজেট’-এ প্রকাশিত নির্দেশিকায় এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে গেলে আলাদা করে কোনও অনুমতির প্রয়োজন ছিল না। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সেই বিল রাজ্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই নতুন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্নের মতে, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালেই যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পরীক্ষা সম্ভব হয়, তাহলে অযথা বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ করার প্রয়োজন নেই। নতুন নিয়মের ফলে চিকিৎসা ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আসবে এবং সরকারের আর্থিক চাপও কমবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে মন্ত্রীদের মেডিক্যাল বিল নিয়ে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বাম আমলে প্রাক্তন মন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায়ের একটি দামি চশমার বিল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল আমলেও সাবিত্রী মিত্রের চিকিৎসা খরচ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা বজায় থাকবে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে তাঁরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
তবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে হলে আগে থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া এই সুবিধা মিলবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ—এই দুই দিক মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।