পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কার্যকর করতে নতুন করে আট দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ এবং আগের সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শংসাপত্র ছাড়া কোনও পশু জবাই করা যাবে না। ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ-সহ একাধিক প্রাণীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কারা দেবেন অনুমতি?
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশুচিকিৎসক যৌথ ভাবে জবাইয়ের অনুমতি দিতে পারবেন। প্রাণীটি যদি বয়স, অসুস্থতা, আঘাত বা অক্ষমতার কারণে কাজের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, তা হলে শংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে।
যদি আবেদন খারিজ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।
কোথায় জবাই করা যাবে?
সরকার জানিয়েছে, অনুমোদিত প্রাণী শুধুমাত্র বৈধ কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। প্রকাশ্য জায়গা বা জনসমাগম এলাকায় জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কসাইখানা পরিদর্শনে সরকারি আধিকারিক বা পশুচিকিৎসকদের বাধা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশে জানানো হয়েছে।
আইন ভাঙলে কী শাস্তি?
এই আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দু’টি শাস্তিই একসঙ্গে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকার।
রাজ্য প্রশাসনের দাবি, বেআইনি জবাই রুখতে এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।