প্রথম পাতা খবর বাবার মৃত্যুর পরও আর্থিক সাহায্য নয়, ‘বিশ্বমানের স্কুল’ চান বাঁকুড়ার হাফিজ

বাবার মৃত্যুর পরও আর্থিক সাহায্য নয়, ‘বিশ্বমানের স্কুল’ চান বাঁকুড়ার হাফিজ

6 views
A+A-
Reset

বাঁকুড়া: শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছিলেন তরুণ শেখ আবদুল হাফিজ। নিজের এলাকার স্কুলের বেহাল দশা বদলাতে প্রশাসনের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কাজের জেরেই হামলার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। আর ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন তাঁর বাবা শেখ মাফিক।

ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামে কয়েক দিন আগে হাফিজের বাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় ছেলেকে আড়াল করে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব শেখ মাফিক। অভিযোগ, হামলায় গুরুতর জখম হন তিনি। পরে বর্ধমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বাবাকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হাফিজ। তবে এই পরিস্থিতিতেও নিজের আদর্শ থেকে সরে আসেননি তিনি। দরিদ্র পরিবারের সংসার চালানোর জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হাফিজ।

তাঁর দাবি, পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য নয়, বাবার স্মৃতিতে বাংলার যে কোনও জায়গায় একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করা হোক। হাফিজের এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। পিতৃশোকের মধ্যেও তাঁর এই অবস্থানের প্রশংসা করেছেন অনেকে।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন হাফিজ বলে জানা গিয়েছে। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশের শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নতির পক্ষে সরব হয়েছিলেন তিনি। পরে নিজের গ্রামে ফিরে এসেও সেই কাজ চালিয়ে যান।

করিশুন্ডা এলাকার প্রাথমিক স্কুলের পরিকাঠামোর বেহাল দশা তাঁর নজরে আসে। স্কুলের পরিস্থিতি বদলাতে প্রধান শিক্ষক থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। স্থানীয় স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তাঁর এই উদ্যোগই তাঁকে সাধারণ মানুষের নজরে নিয়ে আসে।

সোমবার হাফিজের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা-সহ কয়েকজন প্রতিনিধি। তাঁর পাশে দাঁড়ান সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এবং এসএফআইয়ের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসও। তাঁরা হাফিজকে সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানানোর পরামর্শ দেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে হাফিজের বক্তব্য, ব্যক্তিগত আর্থিক সাহায্যের চেয়ে বাবার নামে একটি উন্নতমানের স্কুল তৈরি হলে সেটিই হবে তাঁর বাবার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। পিতৃশোকের মধ্যেও শিক্ষার জন্য তাঁর এই দাবি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.