রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, স্বাস্থ্য দফতর থেকে পৃথক করে আয়ুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আয়ুর্বেদ, যোগ, হোমিওপ্যাথি ও ইউনানী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের আয়ুষ চিকিৎসক মহলের একটি বড় অংশ পৃথক দফতরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে থাকার ফলে আয়ুষ পরিষেবা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে না।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আয়ুষকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করা হবে। খুব শীঘ্রই এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। অনুমোদন মিললেই একজন দক্ষ আধিকারিকের হাতে নতুন দফতরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়ুষ চিকিৎসার সম্ভাবনা ও জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গকেও সেই ধারার সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে চায় রাজ্য সরকার। নতুন দফতর গঠনের ফলে রাজ্যের মানুষ আয়ুষ-সংক্রান্ত নানা পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও সহজে পাবেন বলেও আশাবাদী প্রশাসন।
এই ঘোষণার পর আয়ুষ চিকিৎসক মহলের একাংশে ইতিমধ্যেই উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের মতে, পৃথক মন্ত্রক গঠিত হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামো বৃদ্ধি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়বে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরকেও আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।