প্রথম পাতা খেলা সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ডকে হারিয়েও স্বস্তিতে নয় মেসিরা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ডকে হারিয়েও স্বস্তিতে নয় মেসিরা

18 views
A+A-
Reset

নিজস্ব সংবাদদাতা:
বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলেন লিয়োনেল মেসিরা। তবে স্কোরলাইন যতটা স্বস্তিদায়ক, মাঠের খেলায় ততটা আত্মবিশ্বাসী দেখায়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বরং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে সুইৎজ়ারল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং গতি— দুই ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল সুইসরা। ড্যান এনদোয়ে, ব্রিল এমবোলো, গ্রানিত জ়াকার দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবই শেষ পর্যন্ত সুইৎজ়ারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

চাপের মধ্যেও প্রথম গোলটি করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিয়োনেল মেসির কর্নার থেকে দুরন্ত হেডে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপরও আক্রমণে ধার বজায় রাখে সুইৎজ়ারল্যান্ড। মাঝমাঠে তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পাসিং আর্জেন্টিনাকে বারবার রক্ষণে নামতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপেরই ফল পায় সুইৎজ়ারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়কে পরাস্ত করে সমতা ফেরান ড্যান এনদোয়ে।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় পাঁচ মিনিট পর। প্লে-অ্যাকটিংয়ের অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এমবোলোর। ৭২ মিনিট থেকে ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয় সুইৎজ়ারল্যান্ড। সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও নির্ধারিত সময়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বরং কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মেসি। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান।

অতিরিক্ত সময়েও সহজে ভাঙেনি সুইস রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ়। প্রথমে মেসির শট আটকে দিলেও ফিরতি আক্রমণ থেকে গোল করেন তিনি। সংযুক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজ় তৃতীয় গোল করে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠলেও এই ম্যাচ স্কালোনির দলের কিছু দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে দিল। দ্রুতগতির আক্রমণের বিরুদ্ধে রক্ষণে অনিশ্চয়তা, এগিয়ে থেকেও গোল হজমের প্রবণতা এবং অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতা— সবই চিন্তার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে এই সমস্যাগুলি কাটিয়ে ওঠাই হবে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.