প্রথম পাতা খবর নাছোড় কাকলি! এ বার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারকে অভিযোগ

নাছোড় কাকলি! এ বার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারকে অভিযোগ

71 views
A+A-
Reset

তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদের প্রকাশ্য মতবিরোধ এবার নতুন মাত্রা পেল। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর উদ্যোগ নিলেন। অভিযোগ, মহিলা সাংসদের প্রতি অভব্য ও অশালীন আচরণ করেছেন কল্যাণ।

দলের অন্দরে কয়েকদিন ধরেই অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছিল। সম্প্রতি একটি প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় অভিযোগ করেন, এক মহিলা সাংসদের প্রতি এক দলীয় সাংসদের অশোভন আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি হতাশ। যদিও সেখানে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর অভিযোগের নিশানায় ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার বিষয়টি সংসদের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। কাকলির লেটারহেডে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই নয়, অন্য মহিলা সাংসদের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে তখনই কেন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

চিঠির সময় নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, যেদিনের তারিখে চিঠি লেখা হয়েছে, সেদিন সরকারি ছুটি ছিল। ফলে গোটা ঘটনাকে তিনি গুরুত্ব না দিয়ে ‘প্রচারে থাকার চেষ্টা’ বলেই কটাক্ষ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দুই সাংসদের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব আগামী দিনে দলীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.