অন্নপূর্ণা যোজনার বাস্তবায়নকে সামনে রেখে সোমবার থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হচ্ছে আবেদনপত্র যাচাই এবং উপভোক্তাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই হয়েছে, তবে এবার প্রশাসনিক স্তরে শুরু হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৩ জুন থেকেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কাজ শুরু হতে পারে। সেই কারণেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
প্রকল্পের তদারকির জন্য রাজ্যের ২২টি জেলার দায়িত্বে ২২ জন সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পর্যায়ের আধিকারিককে নিয়োগ করা হয়েছে। আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সঠিকভাবে আবেদনপত্র বিতরণ করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করাই হবে তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
রাজ্য প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট লক্ষ্যও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২ জুনের মধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। কারণ, সরকার চাইছে ৩ জুন থেকেই আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু করতে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার আবেদনপত্র ইতিমধ্যেই অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাচ্ছে। বিডিও অফিস, জেলা প্রশাসনিক দপ্তর, পুরসভা এবং ওয়ার্ড অফিস থেকে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যদিও অনলাইনে কোথায় ফর্ম গ্রহণ করা হচ্ছে তা এখনও উল্লেখ করা হয়নি।
ফর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব প্রশাসনই নেবে। যাঁরা নিজেরা আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি কর্মীরাও এগিয়ে আসবেন।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আপাতত ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২ জুনের মধ্যে যাঁদের আবেদন জমা পড়বে এবং যাচাইয়ে কোনও ত্রুটি ধরা পড়বে না, তাঁরা জুন মাসেই প্রথম কিস্তির ৩,০০০ টাকা পেতে পারেন। সরকার আরও জানিয়েছে, প্রকল্পে আবেদন করার সময় পরিবারের সদস্যদের তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, বার্ষিক আয়, জমির মালিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।