রাজ্যের ক্রীড়া বাজেটে একাধিক নতুন প্রকল্প ও আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ক্রীড়া বাজেট পেশ করে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, ভিত্তিমূল স্তর থেকে ফুটবলের প্রসার এবং নতুন প্রতিভা তুলে আনতে চালু করা হচ্ছে ‘নরেন্দ্র কাপ’ নামে একটি নতুন ফুটবল প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক স্তরের পদকজয়ীদের পুরস্কার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ‘নরেন্দ্র কাপ’ মহকুমা, জেলা এবং রাজ্য— এই তিন ধাপে আয়োজিত হবে। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হল তৃণমূল স্তরে ফুটবলের বিকাশ, নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক মেলবন্ধন গড়ে তোলা। প্রতিযোগিতাটি ভবিষ্যতের ফুটবলারদের বড় মঞ্চ তৈরি করবে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্কুল-কলেজে ১৫ লক্ষ টাকা
ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্রীড়া পরিকাঠামো প্রকল্প’ চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ও কলেজকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, একেবারে স্কুল স্তর থেকেই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
পদকজয়ীদের পুরস্কারে বড় বৃদ্ধি
রাজ্যের ‘অটল খেল সম্মান’-এর আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
- অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে পুরস্কার বেড়ে ২৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা।
- রুপো জিতলে ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা।
- ব্রোঞ্জ জিতলে ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৫০ লক্ষ টাকা।
এছাড়া ‘চিফ মিনিস্টার্স কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান’ প্রকল্পে অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে। ‘যুবশক্তি ভরসা কর্মসূচি’-র আওতায় ক্রীড়াবিদদের মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি যোগ্য ক্রীড়াবিদদের জন্য পুলিশে চাকরির সুযোগ তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আর্থিক সহায়তা
ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ক্রীড়া সহায়তা তহবিল’ গঠন করা হবে। এই তহবিল থেকে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ক্লাব বা ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বাজেট বক্তৃতায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পরোক্ষভাবে আক্রমণও করেন ইন্দ্রনীল খাঁ। লিওনেল মেসিকে ঘিরে অতীতের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “মেসির নাম করে মেসোকে নিয়ে এসে ক্রীড়াপ্রেমীদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল।”
নতুন ক্রীড়া বাজেটের মাধ্যমে রাজ্যে তৃণমূল স্তর থেকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার বলে দাবি করেছে ক্রীড়া দফতর।