প্রথম পাতা খবর প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ ১৯ সাংসদের চিঠি, তালিকায় দেব, রচনা, সায়নী, জুন

প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ ১৯ সাংসদের চিঠি, তালিকায় দেব, রচনা, সায়নী, জুন

7 views
A+A-
Reset

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ভাঙন যে ক্রমশ গভীর হচ্ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হল শুক্রবার। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই সামনে চলে এল সেই ১৯ জন সাংসদের নাম, যাঁরা এনডিএ ব্লকের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা-সাংসদ দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ-সহ দলের একাধিক পরিচিত মুখ।

রাজনৈতিক মহলে গত কয়েক দিন ধরেই জোর জল্পনা চলছিল, প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ নাকি দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের পথে হাঁটছেন। তবে প্রকাশ্যে খুব কম সাংসদই মুখ খোলায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই প্রকাশ্যে আসে স্পিকারকে পাঠানো চিঠি, যেখানে ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে।

চিঠিতে সই করা সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, মালা রায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, অরূপ চক্রবর্তী, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল এবং ইউসুফ পাঠান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তালিকার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, সইকারীদের মধ্যে যেমন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মুখ রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতারাও। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সায়নী ঘোষের নাম। সম্প্রতি ঘোষিত দলের নতুন কমিটিতে যুব সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। একইভাবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্রের খবর, গত ৯ জুন দিল্লির ৯ মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথম দফায় ১৪ জন সাংসদ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। পরে আরও পাঁচ জন সাংসদ তাতে সই করেন। দ্বিতীয় দফায় স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই সাংসদরা ফের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এনডিএ-কে সমর্থনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো এবং লোকসভায় তাঁদের বসার ব্যবস্থা আলাদা করার আবেদন জানিয়ে নতুন করে চিঠি দেওয়া হতে পারে। সেই উদ্দেশ্যে রবিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে অধিকাংশ সাংসদের।

জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে একটি নৈশভোজের আয়োজনও করা হয়েছে। সেখানে বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সাংসদদের অবস্থান নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করবেন। ফলে আগামী সপ্তাহে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে, পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর লোকসভাতেও সাংসদদের বড় অংশের সমর্থন হারানোর ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্বের উপর চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.