প্রথম পাতা খবর ভোররাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি, তালা ভেঙে ঢোকার অভিযোগ; ঘটনাস্থলে মমতা

ভোররাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি, তালা ভেঙে ঢোকার অভিযোগ; ঘটনাস্থলে মমতা

7 views
A+A-
Reset

শনিবার ভোররাতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগ, ভোর ৩টার কিছু পরে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে পৌঁছয়। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয় বলে দাবি করেছেন অভিষেক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনি থানার পুলিশ এবং কালীঘাট থানার আধিকারিকরা অভিযানে অংশ নেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। বাড়ির বাইরে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়ির ভিতরে তল্লাশি চলে বলে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করেন। সকাল ৮টার পর পুলিশ বাহিনী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে মমতাও সেখান থেকে চলে যান।

তল্লাশি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তালা ভেঙে ঢুকে পুরো বাড়ি ওরা সার্চ করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে।” তবে কোন মামলার তদন্তে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি-র মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তিনি ভবানী ভবনে হাজিরা দেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।

সই-কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে অভিষেক হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, দু’সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

এর মধ্যেই শুক্রবার আবার অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। তবে সেই অভিযান ছিল অন্য একটি মামলার তদন্তের অংশ। অভিষেকের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সল্টলেক সাইবার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। প্রথমে তাঁকে না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের। পরে অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়।

সূত্রের খবর, আগামী ১৪ জুন সই-কাণ্ডে ফের সিআইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে অভিষেকের। পাশাপাশি ১৬ জুন সাইবার মামলার তদন্তেও তাঁকে তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ১৫ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ইডি।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের নোটিস পর্বের পর শনিবার ভোরে ফের পুলিশি তৎপরতা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। শালবনি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কালীঘাট থানার পুলিশও অভিযানে অংশ নেওয়ায় তল্লাশির উদ্দেশ্য ও মামলার প্রকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.