কলকাতা: আচমকাই কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হাজির হলেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ইন্ডি জোটের অন্দরে সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে, তখন এই হাইভোল্টেজ বৈঠক নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই ফলাফল নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি এবং ভোট লুটের মাধ্যমেই তৃণমূলকে পরাজিত করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে দল। সেই আবহে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতায় এসে কালীঘাটে মমতার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন অখিলেশ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই সাক্ষাৎ ইন্ডি জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমীকরণে ভাঙনের ইঙ্গিতও সামনে আসে। সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা কিরণময় নন্দ কলকাতায় এসে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, “মানুষ মমতাকে চায়নি, তাই তিনি হেরেছেন।” অখিলেশ যাদবের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। এর পর থেকেই তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এই আবহে জয়া বচ্চনের কালীঘাট সফরকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, কিরণময় নন্দের মন্তব্যের জেরে দুই দলের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটানোর প্রয়াস হিসেবেও এই সফরকে দেখা হতে পারে। আবার অন্য একটি অংশের ধারণা, ইন্ডি জোটের ভবিষ্যৎ রণকৌশল এবং শরিক দলগুলির পারস্পরিক সমন্বয় নিয়েও এই বৈঠকে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বচ্চন পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অতীতেও তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে জয়া বচ্চনকে দেখা গিয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই সফর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবারের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে দুই দলের তরফেই মুখে কুলুপ আঁটা হয়েছে। ফলে জয়া বচ্চনের এই ঝটিকা সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে।