কলকাতা: উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ৩ জুলাই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ দানা বাঁধতে পারে। এর প্রভাবে শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে এবং শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩ জুলাই থেকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। এদিন এবং শুক্রবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে এক-দু’পশলা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে রবিবার শহরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন ৭০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
শনিবার দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
রবিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ওই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃহস্পতিবার কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার থেকে সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম।