রামপুরহাট: দীর্ঘ ১৫ বছর পর অবশেষে নতুন কমিটি পেল বীরভূমের প্রসিদ্ধ সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ মন্দির। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মৌখিক ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন মন্দির কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন অপর সেবায়েত পুলক চট্টোপাধ্যায়।
এতদিন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তারাময় মুখোপাধ্যায়। নতুন কমিটি গঠনের ফলে তাঁর দায়িত্বের অবসান ঘটল।
মন্দিরের একাংশ সেবায়েতের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে মন্দিরের প্রচলিত নিয়মকানুন না মেনেই একটি কমিটি মন্দির পরিচালনা করে এসেছে। নতুন সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, মন্দির কমিটি গঠনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসে কমিটি গঠন হওয়ার কথা এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও প্রতি বছর বৈঠকের মাধ্যমে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হয়। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে মন্দিরের নিয়মকে উপেক্ষা করেই একই কমিটি দায়িত্বে ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মন্দিরের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে মন্দির পরিচালনার কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না। এখানে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা হবে।”
নতুন কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ভক্তদের যাতে আরও সুষ্ঠুভাবে মন্দিরে দর্শনের সুযোগ হয়, সে বিষয়ে আগামী দিনে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষ করে, দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনের সমস্যার সমাধানে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুলকের দাবি, আগামী দিনে মূলত দুটি লাইন রাখা হবে—একটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এবং অন্যটি বিশেষ লাইনের জন্য। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনও পৃথক লাইন থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর নতুন কমিটি গঠিত হওয়ায় মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে। নতুন কমিটির সদস্যরাও আশাবাদী যে, তাঁদের উদ্যোগে তারাপীঠ মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও ভক্তবান্ধব হয়ে উঠবে।