কলকাতা: ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে টানা ৬০ দিনের জন্য জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকবে। এর ফলে ওই এলাকায় চার বা তার বেশি জনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরও। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সময়সীমার মধ্যেই রয়েছে ২১ জুলাই, যা তৃণমূলের শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে দীর্ঘ ৬০ দিনের জন্য জমায়েত নিষিদ্ধ করার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই। তাদের অভিযোগ, পুলিশের এই নির্দেশিকা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং স্বেচ্ছাচারী।
এই মামলার আবেদনকারী কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর পক্ষে আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন দলের অপর সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর পর্যন্ত তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মূল কর্মসূচি ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বর্তমানে দলের অভ্যন্তরে কালীঘাটপন্থী এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী—এই দুই শিবিরের মধ্যে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে।
ইতিমধ্যেই ঋতব্রত শিবির জানিয়েছে, তারা ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি পেয়েছে এবং ধর্মতলার জওহরলাল নেহরু রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে প্রস্তুতিও শুরু করেছে। অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই শহিদ দিবসের কর্মসূচি করার অবস্থানে অনড়। সম্প্রতি ওই স্থান পরিদর্শন ও মাপজোক করতে গিয়ে দলের নেতা কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআরও দায়ের হয়েছে।
এখন আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না এবং ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না।