নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ছ’দিন পরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২৬ অগস্টের বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবার পর্যন্ত ১,০৫০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নেপালের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের দাবি, এখনও প্রায় ৪,০০০ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। বিপর্যয়ের পর থেকে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের জেরে নেপালের একাধিক এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত। মঙ্গলবারও আটটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা থেকে নতুন করে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে চিতওয়ান থেকে ৩২১টি, নওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে ২১৬টি, নওয়ালপারাসি পশ্চিম থেকে ১৭০টি, নুয়াকোট থেকে ৯৫টি, গোর্খা থেকে ৬৫টি, ধড়িং থেকে ৫৭টি, রাসুয়া থেকে ৪১টি এবং তানাহুন থেকে ৩৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। চিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিব্বতেও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনেরা, কোথাও প্রতীকী দাহ
বিপর্যয়ের প্রায় এক সপ্তাহ পরেও বহু নিখোঁজের সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘুরছেন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই অবশ্য প্রিয়জনের ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার নেপালের একাধিক পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের উদ্দেশে প্রতীকী দাহ করেছেন। কুশপুতুল তৈরি করে আচার মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে নিখোঁজ প্রিয়জনের আত্মার শান্তি কামনা করা সম্ভব হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
এই বিপর্যয়ের পর নেপালে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জও হিমালয় অঞ্চলে ভবিষ্যতে হিমবাহে ধস ও হিমবাহ-হ্রদ সংক্রান্ত বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
২০২০ সালের একটি গবেষণায় নেপাল, চিন ও ভারতের হিমালয় অঞ্চলের ৪৭টি হিমবাহ হ্রদ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে সেগুলির পাড় ভেঙে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন।
মৃতদেহ শনাক্ত করে দেশে ফেরাতে ৯ ধাপ
এই পরিস্থিতিতে নেপালে থাকা ভারতীয়দের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দিয়েছে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস। নেপালে বিপর্যয়ে কোনও ভারতীয়ের মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁর দেহ শনাক্ত করা এবং দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নেপাল সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
দূতাবাসের জানানো প্রক্রিয়ায় রয়েছে—
- মৃতদেহ নথিভুক্তকরণ
- দেহের ছবি ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ
- ময়নাতদন্ত
- মৃত্যুর কারণ নির্ণয়
- পরিচয় শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই
- ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
- ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ
- ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি
- মেমো-সহ মৃতদেহ পরিবারের হাতে হস্তান্তর
এখনও পর্যন্ত নতুন করে কোনও ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে।