প্রথম পাতা খবর শিয়ালদহ স্টেশনের ফুডপ্লাজায় খাবারের দোকানে আগুন, ধোঁয়ায় ঢাকল চত্বর! ঘটনাস্থলে দমকলের ৩ ইঞ্জিন

শিয়ালদহ স্টেশনের ফুডপ্লাজায় খাবারের দোকানে আগুন, ধোঁয়ায় ঢাকল চত্বর! ঘটনাস্থলে দমকলের ৩ ইঞ্জিন

6 views
A+A-
Reset

সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনে শিয়ালদহ স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড। সোমবার সকালে স্টেশনের ফুডপ্লাজার একটি খাবারের দোকান থেকে আচমকাই ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে প্রায় গোটা স্টেশন চত্বরে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও।

সোমবার সকাল ৯টা ১৪ মিনিট নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একটি খাবারের দোকান থেকে অনর্গল ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় স্টেশন চত্বরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ব্যস্ত সময়ে এমন ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। খবর দেওয়া হয় দমকলে।

খবর পেয়েই দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করেন দমকলকর্মীরা। দোকানের কাচ ভেঙে ধোঁয়া বাইরে বের করারও চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রেলের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

দমকল সূত্রে খবর, স্টেশন সংলগ্ন ওই খাবারের দোকানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যথাযথ জল পরিষেবা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি দমকল আধিকারিকদের। আপাতত দমকলের নিজস্ব জল ব্যবহার করেই আগুন নেভানোর কাজ চলছে।

এই মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা না গেলেও গোটা এলাকা এখনও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। আগুন যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য চলছে কুলিং প্রসেস। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক একাধিক অগ্নিকাণ্ডের পর শিয়ালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রেলস্টেশনে এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। সম্প্রতি তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে আগুনে প্রাণ হারান আরও ৯ জন। পরপর এই দুই ঘটনার পর শিয়ালদহ স্টেশনের খাবারের দোকানে অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এদিনের ঘটনায় অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে যাত্রীদের ভিড়ে ঠাসা শিয়ালদহ স্টেশনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারত। ফলে স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকায় খাবারের দোকানগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.