রাজ্যে ডেঙ্গির পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে ডেঙ্গি পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গি পজিটিভ রোগী রয়েছেন। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হই হই, গেল গেল রব তোলার কোনও কারণ নেই।” ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়া নিয়েও অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন করেন তিনি।
বৃহত্তর কলকাতায় নজর, ১২ ওয়ার্ডে ডেঙ্গি
মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় স্বাস্থ্যভবনে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার পুর কমিশনার এবং ২১টি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পুর ও নগরোন্নয়ন, পরিবহণ ও সেচ দফতরের সচিব এবং রেলের আধিকারিকদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছিল।
বৃহত্তর কলকাতায় ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি পুরসভার চেয়ারম্যান যথাযথভাবে কাজ করছেন না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মরত ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বৃহত্তর কলকাতার ১৬৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গির সংক্রমণ রয়েছে। মুর্শিদাবাদের নওদা এবং নদিয়ার চাকদহের মতো কয়েকটি ব্লকেও ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে বলে জানান তিনি।
নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারির নির্দেশ
ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারি চালানোর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, সামান্য জ্বর হলেও তা অবহেলা করা যাবে না। আশা কর্মীদের মাধ্যমে জ্বরের রোগীদের চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে চিহ্নিত ১৪৮ জন ডেঙ্গি রোগীর পরিবারের সদস্যদেরও নজরদারির আওতায় রাখার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডেঙ্গি সংক্রান্ত কোনও তথ্য গোপন করা হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
লার্ভানাশক ব্যবহারে জোর, ধোঁয়া নিয়ে সতর্কতা
ডেঙ্গির মশার লার্ভা ধ্বংস করতে তরল লার্ভানাশকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে মশা মারার ধোঁয়া বা ফগিং ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত ধোঁয়া ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুরসভা-সহ কেএমডিএ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথাও জানান তিনি। এই অভিযানে এনজিও এবং পুলিশকর্মীদেরও যুক্ত করা হবে।
দক্ষিণ দমদমের চিকিৎসককে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ
দক্ষিণ দমদমের একটি ঘটনায় চিকিৎসক ডেঙ্গির কথা বলেছিলেন। ওই চিকিৎসকের কাছে ডেথ অডিট কমিটির রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আয়ুষ্মান ভারত নিয়েও পর্যালোচনা
মঙ্গলবারের বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা নিয়েও পর্যালোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুই প্রকল্প মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯,৭০০-র বেশি মানুষ কার্ড পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ওড়িশা, মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের ৪৫২ জন বাসিন্দাও রয়েছেন।
কালিম্পং, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলির বাসিন্দারাও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে বীরভূমের শিশু ফারহান আলির চিকিৎসার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।