প্রথম পাতা খবর সেবাশ্রয় মামলায় নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে রক্ষাকবচ, ‘বারবার এফআইআর কেন?’ প্রশ্ন হাই কোর্টের

সেবাশ্রয় মামলায় নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে রক্ষাকবচ, ‘বারবার এফআইআর কেন?’ প্রশ্ন হাই কোর্টের

11 views
A+A-
Reset

সেবাশ্রয় দুর্নীতির মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে বারবার এফআইআর করা হচ্ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ভাবে একের পর এক মামলা চলতে থাকলে আগামী দিনে আরও কঠোর নির্দেশ দিতে আদালত বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডায়মন্ড হারবারে নিজের সংসদীয় এলাকায় দু’বার সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক। অভিযোগ, নিয়ম মেনে ওই শিবিরের আয়োজন করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, একাধিক রোগীর ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় গত জুলাইয়ে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি বিষ্ণুপুর থানায় সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগ করেন। পরে মালতী বিশ্বাসের পরিবারের তরফে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। এরপরই রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।

সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত সেবাশ্রয় মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। তবে তদন্তে অভিষেককে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে পুলিশ অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে পারবে।

‘ভুল চিকিৎসার অভিযোগ কোথায় জানানো হয়েছিল?’

অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি জানতে চান, যে রোগীর ভুল চিকিৎসা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাঁর পরিবার কি আগে কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল?

বিচারপতির বক্তব্য, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ থাকলে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মতো উপযুক্ত জায়গায় অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সেখানে আদৌ কোনও অভিযোগ করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অভিষেক নিজে সরাসরি কোনও রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। সে ক্ষেত্রে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

রাজ্যের যুক্তি কী?

রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, অভিষেক সরাসরি কোনও রোগীর ভুল চিকিৎসায় যুক্ত না থাকলেও আইন মেনে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করা হয়নি। ক্লিনিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট আইন অনুযায়ী এই ধরনের পরিষেবা দিতে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে রাজ্যের দাবি।

এ ছাড়াও অনুমতি ছাড়াই এক্স-রে এবং আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতির প্রশ্ন, অভিষেক যদি সরাসরি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, তা হলে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন কেন?

‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়’

শুনানির সময় একের পর এক মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তাঁর মন্তব্য, ‘‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। গত কয়েক মাসে এক জন ব্যক্তির নামে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত বিরক্ত।’’

প্রয়োজনে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় দেওয়া নির্দেশের মতো নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও জানান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ ক্ষেত্রেও শুভেন্দু অধিকারীর মতো নির্দেশ দিতে বাধ্য হব। আদালতের অনুমতি ছাড়া আর কোনও এফআইআর করা যাবে না। এটা কী চলছে?’’

উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও এফআইআর নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তাঁর পক্ষ। সেই মামলায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করা যাবে না।

অভিযোগকারীকে নিয়েও প্রশ্ন আদালতের

মামলার অভিযোগকারী বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস এর আগে দু’বার ভোটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে পরাজিত হয়েছেন। এই বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। বিচারপতি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে অভিযোগকারী অভিজিতের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, দু’বার ভোটে অভিষেকের কাছে পরাজিত হয়েছেন বলেই তাঁর মক্কেল অভিযোগ করতে পারবেন না, এমনটা হতে পারে না। তাঁর দাবি, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই যাচাই করা উচিত।

অভিষেকের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ এবং অয়ন ভট্টাচার্য।

বিদেশে অভিষেক, ২২ সেপ্টেম্বরের পর তলব করতে পারবে পুলিশ

অভিষেক গত ৩ সেপ্টেম্বর বিদেশে গিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তিন সপ্তাহ বিদেশে থাকবেন তিনি। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা। কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছে, অভিষেক ফিরলে তা আদালতকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে ২২ সেপ্টেম্বরের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারবে পুলিশ।

পাশাপাশি, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ নিয়ে রোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ করা হয়ে থাকলে তার নথিও আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। তবে তদন্তে সহযোগিতার শর্ত বহাল থাকছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.