মালদহ: নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতা ও হাওড়ার ট্রেন যোগাযোগে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। শনিবারও বাতিল করা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। দক্ষিণবঙ্গমুখী বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে, আবার কয়েকটি ট্রেনকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিকল্প পথে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের মেরামতির কাজ চললেও কবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
রেল সূত্রে খবর, নিউ ফরাক্কার কাছে প্রায় একই জায়গায় বার বার ধস নামছে। টানা বৃষ্টিতে রেললাইনের নীচের মাটি আলগা হয়ে যাওয়াতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালির বস্তা এবং স্টোনচিপ্স দিয়ে ভিত শক্ত করার কাজ করছেন রেলের ইঞ্জিনিয়ারেরা।
তবে মেরামতির কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। রেল সূত্রের দাবি, ভিত শক্ত করার জন্য অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা টানা বৃষ্টিহীন আবহাওয়া প্রয়োজন। তার আগে ফের বৃষ্টি হলে নতুন করে মাটি ধসের আশঙ্কা থাকছে।
শনিবার বাতিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন
শনিবার উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গমুখী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস এবং সরাইঘাট এক্সপ্রেস।
বাতিল হয়েছে গুয়াহাটি–হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, বামনহাট–শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি–শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, বালুরঘাট–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, জলপাইগুড়ি রোড–শিয়ালদহ হমসফর এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর–কলকাতা এক্সপ্রেস, যোগবনী–কলকাতা এক্সপ্রেস, কাটিহার–হাওড়া এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর–হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, বালুরঘাট–কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন–হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নাহারলাগুন–সাঁতরাগাছি স্পেশ্যাল এবং সহর্ষ–শিয়ালদহ হাটেবাজারে এক্সপ্রেস।
পাশাপাশি মালদহ–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, মালদহ–সাহিবগঞ্জ মেমু, সাহিবগঞ্জ–আজিমগঞ্জ মেমু, ভাগলপুর–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, সাহিবগঞ্জ–মালদহ মেমু, আজিমগঞ্জ–সাহিবগঞ্জ মেমু, আজিমগঞ্জ–বরহারওয়া প্যাসেঞ্জার এবং আজিমগঞ্জ–ভাগলপুর প্যাসেঞ্জারও বাতিল করা হয়েছে।
ঘুরপথে চলছে দূরপাল্লার ট্রেন
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে চালানো হচ্ছে। মালদহ থেকে নয়াদিল্লিগামী এক্সপ্রেস ট্রেনকে কাটিহার, মানসি ও মুঙ্গের হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। বঠিন্ডা–বালুরঘাট ফরাক্কা এক্সপ্রেস এবং উধনা–মালদহ টাউন স্পেশ্যালকেও বিকল্প পথে চালানো হবে।
কিছু ট্রেনকে নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ ও কাটোয়া হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এনজেপি–হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস, শুক্রবারের গুয়াহাটি–হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, হাওড়া–এনজেপি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া–রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেস এবং কলকাতা–হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস।
এ ছাড়াও ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ ও নলহাটি হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে বালুরঘাট–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, আগরতলা–চরলাপল্লি এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ–শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু–রাধিকাপুর এক্সপ্রেস এবং তম্বরম–নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস।
জলাশয়ের জলেও বাড়ছে সমস্যা
রেললাইনে ধসের জায়গাটির পাশেই রয়েছে একটি জলাশয়। সেখান থেকে জল ক্রমাগত চুঁইয়ে মাটির নীচে ঢুকে পড়ছে। ফলে নরম হয়ে যাওয়া মাটির ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। লাইনের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটি একদিকে হেলে যাওয়ার খবরও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে রেল। প্রথমে ইঞ্জিন চালিয়ে ট্রায়াল রান করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই কামরার ইনস্পেকশন ভ্যান চালানো হবে। তার পর এক ঘণ্টার ব্যবধানে এলবিএইচ কামরা যুক্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সব পরীক্ষা সফল হলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
পূর্বরেল জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সিগন্যালিং মেরামতির কাজও চলছে। নতুন করে পরিস্থিতির অবনতি না হলে শনিবার আপ লাইনে আর ট্রেন বাতিল না করার বিষয়ে আশাবাদী রেল। বিকেলের দিকে পরিষেবা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই শেষ পর্যায়ের কাজ চালানো হচ্ছে।