প্রথম পাতা খবর ভেজালবিরোধী অভিযানে কড়া পুরসভা: ৯৫০ কেজি খাবার নষ্ট, ৩৩টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স স্থগিতের সুপারিশ

ভেজালবিরোধী অভিযানে কড়া পুরসভা: ৯৫০ কেজি খাবার নষ্ট, ৩৩টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স স্থগিতের সুপারিশ

6 views
A+A-
Reset

খাদ্যে ভেজাল ও নিম্নমানের খাবার রুখতে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে জোরদার অভিযান শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। গত চার দিনে শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে হানা দিয়ে প্রায় ৯৫০ কেজি খাবার ও কাঁচামাল নষ্ট করেছেন ফুড সেফটি অফিসাররা। একইসঙ্গে ৩৩টি হোটেল ও রেস্তরাঁর লাইসেন্স স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন ফুড সেফটি উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৭৪টি হোটেল, রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

প্রথম চার দিনের অভিযানে—

  • প্রায় ৯৪৩ কেজি রান্না করা খাবার ও কাঁচামাল নষ্ট করা হয়েছে
  • ১০৬টি খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে
  • ৭৫টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে
  • ৪৬টি জায়গায় নোটিস জারি হয়েছে
  • ৩৩টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডের সুপারিশ করা হয়েছে

পুরসভার এক স্বাস্থ্যকর্তা জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ মিলেছে, তাদের আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে লাইসেন্স স্থগিতের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং ত্রুটি সংশোধনের জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।

মলে মলে হানা, বাজেয়াপ্ত বাসি মাংস

রবিবার শহরের একাধিক শপিং মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। সাউথ সিটি, অ্যাক্রোপলিস এবং হাইল্যান্ড পার্কের মেট্রোপলিস মলের বিভিন্ন খাবারের দোকানে হানা দেন ফুড সেফটি অফিসাররা। নামী চাইনিজ ও বিরিয়ানি রেস্তরাঁ থেকেও ভেজাল মশলা ও দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে একাধিক খাবারের নমুনা।

এর আগে ট্যাংরা এলাকার একটি নামী হোটেলে প্রায় ৫০০ কেজি ফ্রোজেন মাংস উদ্ধার হয়, যার কোনও প্যাকেটে উৎপাদন বা সংরক্ষণের তারিখ লেখা ছিল না। সেই মাংসও নষ্ট করে দেওয়া হয়।

গড়িয়াহাট বাজারেও কড়া নজরদারি

সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই গড়িয়াহাট বাজারে অভিযান চালায় পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। মাছের দোকান থেকে একের পর এক নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি নমুনার সঙ্গে ব্যবসায়ীর নাম ও স্বাক্ষরও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মাংসের দোকানে গিয়ে আরও বড় বেনিয়ম ধরা পড়ে। সংরক্ষণের ক্রেটে কেজির পর কেজি ফ্রোজেন চিকেন ও মাটন পাওয়া যায়, কিন্তু কোনও প্যাকেটেই সংরক্ষণের বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ছিল না। ফলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি মাংস বাজেয়াপ্ত করে ফিনাইল ঢেলে ব্যবহারের অযোগ্য করে ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হয়।

বছরভর অভিযান, পুজোয় আরও কড়াকড়ি

পুরসভা জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষার এই ধরনের অভিযান সারা বছরই চলে। তবে দুর্গাপুজোর আগে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। এবার ফুড সেফটি অফিসারদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চও অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য, যেসব প্রতিষ্ঠানে ছোটখাটো ত্রুটি ধরা পড়েছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাবারের গুণমান, কাঁচামালের মান বা রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুতর গাফিলতি মিললে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.