প্রথম পাতা খবর মমতার সমর্থনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

মমতার সমর্থনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

7 views
A+A-
Reset

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে শুক্রবার একের পর এক নাটকীয় মোড়। সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হলেন মিলন প্রধান।

পুলিশ সূত্রের খবর, পুরনো একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন মিলন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল। সেই মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হতে পারে। তবে গ্রেফতারির সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাক্রমের সময় নিয়েই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবারই সঞ্চিতা প্রধান দে হলদিয়া মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার আগে তিনি নবান্নে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবেন।

মমতার ঘোষণার পরেই মিলনের গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসায় কংগ্রেসের তরফে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগে বিরোধীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, হঠাৎ করে পুরনো মামলায় গ্রেফতারির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

মমতা-শিবিরের পক্ষ থেকেও গ্রেফতারির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ঘটনাটিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে দাবি করে মিলন প্রধানকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে মিলনকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়েছে, পুলিশ তার কাজ করেছে এবং এই গ্রেফতারির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

নন্দীগ্রামে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনে জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপি সেখানে প্রার্থী করেছে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। মমতা-শিবিরের সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ওই শিবির নন্দীগ্রামে কোনও প্রার্থী না দিয়ে কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এখন প্রশ্ন, শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মিলন প্রধানের আইনি অবস্থার কী হবে এবং তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকতে পারবেন কি না। সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.