পূর্ব মেদিনীপুর: দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
৬৪ বছরের আকাশ সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সংবাদসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অন্য নাম আকাশ ওরফে তিমির/মনোজ বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এবং ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল এলাকায় তাঁর গতিবিধির উপর নজর ছিল নিরাপত্তাবাহিনীর।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল আশির দশকে অতি-বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরে তিনি পিপলস্ ওয়ার গ্রুপে যোগ দেন এবং সিপিআই (মাওবাদী) গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম এলাকায় দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন আকাশ। সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদী সংগঠনের একাধিক নেতা ও ক্যাডার আত্মসমর্পণ করার পর তাঁর গতিবিধি নিয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় শেষ দিকের শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর আগে মিসির বেসরা-সহ একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে ঘিরে অভিযানের পর আকাশ সারান্ডা এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে একটি ছোট দল ছিল বলেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আকাশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যে মামলা রয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তাঁর খোঁজ দিতে ১ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। ওড়িশাতেও তাঁর বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, পটাশপুরে পরিচিত একজনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে এসেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় এসটিএফ। বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে মাওবাদী সংগঠন সংক্রান্ত নথি, প্রচারপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আকাশকে গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যদের গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর তরফে আকাশকে দ্রুত আদালতে হাজির করানো এবং তাঁর আইনি অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।