কলকাতা: করম পুজো উপলক্ষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বুধবার অর্থ দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাজ্য সরকারি কার্যালয়, বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন, রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
শুধু সরকারি কর্মী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন চা-বাগানে কর্মরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের কর্মীদের জন্যও ২২ সেপ্টেম্বর ছুটি হিসেবে গণ্য হবে।
করম পুজোর ছুটি ঘোষণার প্রভাব পড়েছে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাতেও। করম পুজোর কারণে ২২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সমস্ত বৃত্তিমূলক বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন সূচি অনুযায়ী, ওই পরীক্ষাগুলি আগামী ১৩ অক্টোবর দ্বিতীয়ার্ধে দুপুর ২টো থেকে ৩টে পর্যন্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে পরীক্ষার সূচিতে ফের পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংসদ।
এর আগে উপনির্বাচনের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষার সূচিতেও পরিবর্তন করা হয়েছিল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তৃতীয় সেমেস্টার। তার মাত্র কয়েক দিন আগে ফের সূচি বদল হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতেও নতুন করে সমন্বয় করতে হবে।
আদিবাসী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ উৎসব করম
তিথি অনুযায়ী পার্শ্ব একাদশীর দিন করম পুজো পালিত হয়। উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয় প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই। কংসাবতী নদীর চর থেকে মাটি সংগ্রহ করে সেখানে বিভিন্ন শস্যের বীজ রোপণ করেন মহিলারা। কয়েক দিন পর সেই বীজ অঙ্কুরিত হলে করম পুজোর দিন তা তুলে এনে পুজো করা হয়। চলে নাচ-গান ও উৎসবের আয়োজন।
কুড়মি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষও এই উৎসবে অংশ নেন। ছোটনাগপুর মালভূমি এবং রাঢ় বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকায় করম উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুরুলিয়ার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ়েও উৎসবটি ধুমধাম করে পালিত হয়।
বাংলার লোকসংস্কৃতিতে করম ও ভাদু উৎসবের সঙ্গে শরতের আগমনেরও একটি সাংস্কৃতিক যোগ রয়েছে। করম উৎসবের পর থেকেই ধীরে ধীরে শারদোৎসবের আবহ তৈরি হতে শুরু করে বলে মনে করেন লোকসংস্কৃতি গবেষকরা।
উল্লেখ্য, আগের সরকারগুলির আমল থেকেই রাজ্যে করম পুজো উপলক্ষে ছুটি দেওয়া হয়ে আসছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২২ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হল।