নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব কংগ্রেস প্রত্যাখ্যান করার পর দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতে সংসদের ভিতরে বা বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে না থাকার বার্তা দিয়েছেন।
উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই সূত্র অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়ে রেজিনগরে তৃণমূলকে সমর্থনের বিনিময় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
তবে এই প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, তৃণমূলের তরফে এমন প্রস্তাব এসেছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে আসন সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে।
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, আপাতত দুই আসনেই তাঁদের প্রার্থীদের সমর্থন করা উচিত তৃণমূলের। ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে দুই দলের সম্পর্ক কী হবে, তা পরে দেখা যেতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য।
দুই আসনে মুখোমুখি তৃণমূল-কংগ্রেস
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। গণনা হবে ৯ অক্টোবর। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান, আর রেজিনগরে প্রার্থী জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ—প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী দলের প্রাক্তন মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি শাখারভ সরকার।
নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসনে জয়ের পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর আসনটি রাখায়। রেজিনগর আসনটি খালি হয় হুমায়ুন কবীর দুটি আসনে জয়ের পর রেজিনগর ছেড়ে নওদা আসনটি রাখায়।
ফলে কংগ্রেস-তৃণমূলের সম্ভাব্য সমঝোতা না হওয়ায় দুই কেন্দ্রে দুই দলের প্রার্থীরা পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামে বামেদের প্রার্থীও রয়েছে এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীও প্রার্থী দিয়েছে।