প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই মুম্বইয়ে থাকতেন তিনি এবং সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।
একসময় বাংলা ছবির পর্দায় মিঠু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিই ছিল আলাদা আকর্ষণ। মিষ্টি মুখ, সাবলীল অভিনয় এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতায় অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন মিঠু। তাঁর অভিনয়জীবনের মূল সময়টা ছিল ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশক।
‘মর্জিনা আবদুল্লা’ থেকেই পরিচিতি
বর্তমান একাধিক প্রতিবেদনে তাঁর বড়পর্দায় অভিষেক হিসেবে ১৯৭২ সালের চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ তাঁকে দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তোলে। আলিবাবার কাহিনির মর্জিনা চরিত্রে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল।
এর পর আসে ‘নিশিকন্যা’। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করেন মিঠু। ১৯৭৪ সালের অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। নীপা চরিত্রে মিঠু এবং সিতেশের ভূমিকায় রঞ্জিত মল্লিকের জুটি আজও বাংলা ছবির দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
‘মৌচাক’-এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ফের জুটি বাঁধেন ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-য়। ১৯৭৫ সালের এই ছবিটিও তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ। ‘কবি’, ‘চাঁদের কাছাকাছি’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’, ‘প্রতিমা’সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।
হিন্দি ছবিতেও পরিচিত মুখ
বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর অভিষেক। শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিতে ছিলেন রাজ কপূরও। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-তেও দেখা যায় তাঁকে।
বিভিন্ন ছবিতে উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কপূর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার-সহ বহু পরিচিত শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন মিঠু মুখোপাধ্যায়।
অনেক আগেই সরে গিয়েছিলেন প্রচারের আলো থেকে
অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও একাধিক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছিলেন মিঠু। ১৯৯০ সালে চন্দ্র বরোটের ‘আশ্রিতা’ ছবিতে শেষবারের মতো বড়পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। এরপর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণভাবে সরে যান অভিনয় ও প্রচারের আলো থেকে।
দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে বহু বছর আগে মুম্বইয়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি। জীবনের শেষ পর্বও কেটেছে সেখানেই। কিন্তু বাংলা ছবির দর্শকের কাছে তিনি থেকে যাবেন ‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর নীপা কিংবা ‘স্বয়ংসিদ্ধা’-র মতো চরিত্রের স্মৃতিতে।