চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের আবেদনে স্বস্তি মিলল না। বৃহস্পতিবার আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ওই চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছিল।
এই চারটি অ্যাকাউন্ট একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে রয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে সেগুলি ডেবিট-ফ্রিজ় করা হয়েছিল। এর আগে ২৭ অগস্ট কলকাতা হাই কোর্টও তৃণমূলের ওই চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়েছিল, দলের কোন গোষ্ঠী আইনগত ভাবে ওই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করার অধিকারী, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করে বলা হয়, দলের নিয়মিত খরচ মেটাতে প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি টাকা প্রয়োজন। সামনে উপনির্বাচন থাকায় দলীয় কর্মসূচি ও অন্যান্য খরচের জন্য ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়।
অন্য দিকে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার পিছনে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত এফআইআর রয়েছে বলে মামলায় উঠে আসে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, অ্যাকাউন্টগুলিতে কোনও বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ নেই এবং ফ্রিজ় করার প্রক্রিয়াতেও ত্রুটি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সামনে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। সেই পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্টগুলির অধিকার নিয়েও বৃহত্তর প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা হাই কোর্টকে মামলাটির শুনানি দ্রুত শেষ করার অনুরোধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে জুলাই মাসে হাই কোর্ট তিনটি অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে দলের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য বিশেষ আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে সীমিত লেনদেনের অনুমতি দিয়েছিল। সেই ব্যবস্থাও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়েছিল।