‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতার রাজপথে মহামিছিলের আয়োজন করেছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই মিছিল হওয়ার কথা। কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছনোর কথা নীতিন নবীনের। তার পর বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হবে মিছিল। ধর্মতলায় গিয়ে তা শেষ হওয়ার কথা। মিছিল শেষে সেখানে বক্তব্যও রাখবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে এই ইস্যুতে সভা করে গেরুয়া শিবির। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ওই দুই সভাতেই প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার কলকাতায় বড় মিছিলের মাধ্যমে সেই কর্মসূচিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি।
রবিবার রাতে মিছিলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কর্মসূচিস্থলে যান বঙ্গ বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ দলের অন্যান্য নেতারা।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও সরব হয়েছে তারা। রবিবার দিল্লিতে ইন্ডি জোটের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির এই মহামিছিল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির বক্তব্য, বিরোধীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সীমা ছাড়িয়ে অরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি করছে। সেই অভিযোগের পাল্টা হিসেবেই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি নিয়েছে দল। সোমবারের মিছিল ঘিরে তাই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।