২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন প্রায় নিশ্চিত বলেই ইঙ্গিত মিলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করেনি রাজ্য সরকার। বুধবার বিকাশ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, পরীক্ষা পিছোনোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে নতুন সূচি প্রকাশ করা হতে পারে।
মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২ মার্চ থেকে শুরু হতে পারে। প্রস্তাবিত সূচিতে পরীক্ষা চলার কথা ১৬ মার্চ পর্যন্ত। পর্ষদ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জনগণনার কাজে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যুক্ত থাকতে হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা। এই সময় শিক্ষকরা জনগণনার কাজে যুক্ত থাকলে পরীক্ষা পরিচালনা ও পরিদর্শনের দায়িত্ব সামলানো কঠিন হতে পারে। সেই কারণেই মাধ্যমিকের সূচি বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিকের সূচি বদলালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ১৬ মার্চের পরে পরীক্ষা শুরু করার কথা বিবেচনা করছে। নতুন সূচি তৈরির কাজও চলছে। তবে সংসদের প্রস্তাব এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনও তারিখকেই চূড়ান্ত বলে ধরা যাচ্ছে না।
পরীক্ষা পিছোলে সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং ফলপ্রকাশের সময়সূচির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উদ্বেগ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, সর্বভারতীয় পরীক্ষা বা ফলপ্রকাশের সঙ্গে যাতে কোনও সংঘাত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি বদলের সম্ভাবনা প্রবল। তবে নতুন রুটিন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পড়ুয়াদের বর্তমান সরকারি সূচি অনুযায়ীই প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।