রাজ্যে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে নিয়োগকর্তাদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। নতুন শিল্পনীতিতে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের জমা দেওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PF-এর টাকায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের কথা রয়েছে। তার পরেই চূড়ান্ত শর্তাবলি স্পষ্ট হবে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা MSME ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনও সংস্থা নতুন কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডে (EPF) নির্দিষ্ট অর্থ জমা দিতে হয়। সেই নিয়োগকর্তার অংশের অর্থের উপরেই ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের ক্ষেত্রে কী সুবিধা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, MSME সংস্থাগুলি মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া PF-এর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ফেরত পেতে পারে। পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভর্তুকির হার হতে পারে ৫০ শতাংশ। দুই ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কর্মীর বেতন থেকে কেটে নেওয়া PF-এর অংশে কোনও ভর্তুকি দেওয়া হবে না। সুবিধাটি শুধুমাত্র নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া অংশের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি অর্থবর্ষে প্রতিটি MSME ইউনিট সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত PF ভর্তুকি পেতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
বড় শিল্পের ক্ষেত্রেও PF-এ সহায়তা
শুধু MSME নয়, বড় শিল্প সংস্থার ক্ষেত্রেও নিয়োগকর্তার PF খরচের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই সুবিধা পাঁচ বছর পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে। তবে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য আলাদা অতিরিক্ত ভর্তুকির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নতুন শিল্পনীতির মূল লক্ষ্য রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের কর্মসংস্থানে উৎসাহ দিতে এই ধরনের আর্থিক সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সমস্ত সুবিধাই এখনও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পর ভর্তুকির প্রকৃত হার, যোগ্যতার শর্ত, আবেদনের পদ্ধতি এবং সুবিধা পাওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।