বড় শিল্পে বিনিয়োগ টানতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করতে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে এই নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পনীতিতে একদিকে বড় লগ্নিকারীদের জন্য ইনসেনটিভ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি ফেলে রাখলে তা ফিরিয়ে নেওয়ার মতো কড়া শর্তও রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে বড় শিল্পগোষ্ঠীর পাশাপাশি রাজ্যের পুরনো ও ঘরোয়া শিল্পগুলির পুনরুজ্জীবনের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দু’বছর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে যে শিল্পে ইনসেনটিভ পলিসি বাতিল করা হয়েছিল, তা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বকেয়া ইনসেনটিভের পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বলে সূত্রের দাবি। এই বকেয়া নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, নতুন শিল্পনীতিতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকছে। তাঁর কথায়, বড় শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেও নতুন নীতির মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। বিনিয়োগকারীরা যাতে রাজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত হন, সেই লক্ষ্যেই একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, শিল্পে ইনসেনটিভ পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রাখা হতে পারে। বিনিয়োগের পরিমাণ কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট শিল্পে কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দারা কতটা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। জমিদাতা পরিবারের যোগ্য সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এজন্য প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
নতুন শিল্পনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং ডেটা সেন্টারের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে শিল্প গড়লে অতিরিক্ত ইনসেনটিভ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই নীতিতে অনুমোদন দিয়েছে এবং অর্থদপ্তরের ছাড়পত্রও মিলেছে বলে সূত্রের খবর।
শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে হবে। তা না হলে বরাদ্দ জমি ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। সিঙ্গুর, হিন্দমোটর, আসানসোল-রানিগঞ্জ, বড়জোড়া এবং হাওড়ার কিছু শিল্পাঞ্চলে বন্ধ কারখানা বা অব্যবহৃত জমি শিল্পের কাজে ব্যবহারের বিশেষ পরিকল্পনাও রাখা হচ্ছে।
শিল্পনীতির পর জমিনীতি ঘোষণার পথে হাঁটতে পারে সরকার। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে বাজারমূল্যে সরাসরি জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কেনার নীতির কথা জানিয়েছে সরকার। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজমির উৎপাদন ক্ষমতা বিবেচনা করে বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ আড়াই গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ভাবনাও রয়েছে। এই জমিনীতি তৈরির কাজ করছে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীগোষ্ঠী।
নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে রাজ্যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বন্ধ শিল্পের পুনরুজ্জীবনে কতটা গতি আসে, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের। তবে জমিনীতি ও ইনসেনটিভ সংক্রান্ত চূড়ান্ত শর্তগুলি সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।