বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হল রাজ্যে। কংগ্রেসের প্রদেশ সম্পাদক আসিফ ইকবাল দল ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে। বুধবার নববর্ষের বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে আয়োজিত সভায় Abhishek Banerjee-র হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে কংগ্রেস শিবিরে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
কে এই আসিফ ইকবাল? মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার রাজনৈতিক পরিবার থেকেই তাঁর উঠে আসা। প্রয়াত পাঁচবারের কংগ্রেস বিধায়ক মইনুল হকের ভাইপো তিনি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে কংগ্রেসে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন আসিফ। ২০১৮ সালে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে জেতা একমাত্র সদস্য ছিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক এবং রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন আসিফ ইকবাল। তবে শেষ পর্যন্ত দল তাঁকে প্রতীক দেয়নি। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয় মাহাতাব শেখকে। প্রথমদিকে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও পরে এসআইআর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তিনি কংগ্রেসের টিকিট পান।
টিকিট না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আসিফ। তিনি প্রকাশ্যে জানান, দীর্ঘদিন নানা বঞ্চনা সহ্য করেও কংগ্রেসের প্রতি অনুগত ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষোভই দলবদলের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর জেরে কংগ্রেস থেকে সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ এক নেতার দলবদল স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মুর্শিদাবাদ সহ দক্ষিণবঙ্গের ভোট সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।