পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকের পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মুখ খুললেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জল্পনার আবহে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। আমার ভালবাসা সারা জীবন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য থাকবে। যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে রয়েছেন, তত দিন তাঁর সঙ্গেই আছি।”
তবে একই সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে ধোঁয়াশাও বজায় রাখলেন তিনবারের সাংসদ। দেব বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কিন্তু দিদি যত দিন আছেন, আমি তাঁর পাশেই থাকব।”
সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকার পর থেকেই দেবকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ঘাটালের মানুষের স্বার্থেই তিনি দিল্লি ও নবান্ন— উভয় জায়গাতেই গিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমাকে যাঁরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাঁরা যেন কোনও দিন না ভাবেন যে ভুল মানুষকে ভোট দিয়েছেন। আমি যেখানেই গিয়েছি, ঘাটালের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের দাবিতেই গিয়েছি।”
প্রশাসনিক বৈঠকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান দেব। তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে স্বপ্নের প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সফল ভাবে শেষ হবে বলেই আমার বিশ্বাস। তিনি আমাকে সেই আশ্বাস দিয়েছেন।”
ঘাটালের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার সমাধান হিসেবে এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে দেব বলেন, “ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা বন্যা। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ সাল থেকে এই প্রকল্পের জন্য লড়াই চলছে। ২০২৪ সালে আমি ভোটে দাঁড়াব না বলেছিলাম। তখন দিদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল।”
রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সৌজন্যের রাজনীতির বার্তাও দেন দেব। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী এই রাজ্যের গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু এই সত্যিটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।”
অন্যদিকে, প্রশাসনিক বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শুধু একটি দলের প্রতিশ্রুতি ছিল না, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও অংশ ছিল। আমরা এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করব। এখানে কৃতিত্ব কার, সেটা বড় বিষয় নয়। উন্নয়নই আসল কথা।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের একাংশ বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেব। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছিল। সেই আবহেই মঙ্গলবারের মন্তব্যে তিনি একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিলেন, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সম্পূর্ণ দরজা বন্ধও করলেন না। ফলে ঘাটালের সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আপাতত অব্যাহতই থাকছে।