বাগবাজার সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় দীর্ঘ চার দশকের একটি পরম্পরায় এবার ছেদ পড়ল। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পুজোর প্রতিমায় দেবীর চক্ষুদান করে আসছিলেন শিল্পী খোকা পাল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার সেই দায়িত্ব পালন করলেন তরুণ শিল্পী ইন্দ্রনাথ পাল।
উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার সর্বজনীনের সাবেকি একচালার প্রতিমার চক্ষুদানকে ঘিরে প্রতিবছরই বিশেষ আগ্রহ থাকে। এবারও নির্দিষ্ট রীতি মেনে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। তবে চক্ষুদানের শিল্পী বদলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে কুমোরটুলির শিল্পী জীতেন পাল বাগবাজার সর্বজনীনের প্রতিমা তৈরি করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর এবার প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁর ছেলে নারায়ণচন্দ্র পাল। অন্য দিকে, জীতেন পালের সময় থেকেই প্রায় চার দশক ধরে খোকা পাল দেবীর চক্ষুদান করে আসছিলেন।
৭৫ বছর বয়সী খোকা পাল বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। রং-তুলি ধরার মতো শারীরিক পরিস্থিতি তাঁর নেই। সেই কারণেই এবার তাঁর জায়গায় চক্ষুদানের দায়িত্ব পান ইন্দ্রনাথ পাল।
চক্ষুদানের পর ইন্দ্রনাথ জানান, বাগবাজারের মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোর প্রতিমায় চক্ষুদানের সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। তাঁর ইচ্ছা ছিল, খোকা পাল নিজেই এবারও এই দায়িত্ব পালন করুন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
১০৮ বছরের পুরনো এই পুজোর ঐতিহ্য বজায় রেখেই প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে। চলতি বছরে পুজো নিয়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও আদালতের নির্দেশে সেই সমস্যা মিটেছে। বাগবাজার সর্বজনীনের পুজোকে ঘিরে উত্তর কলকাতায় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।