দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বাড়ির সামনে ধর্নায় বসার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ আটক করেছে বলে খবর। তাঁর সঙ্গে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলেকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে একাধিক নেতা, কর্মী ও আইনজীবীকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অভিযোগ করেন, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছিল না। পুলিশ তাঁকে আটকে রেখেছিল এবং প্রতিবাদেও বাধা দেওয়া হচ্ছিল বলে তাঁর দাবি। এর পরেই সাংসদদের নিয়ে বাড়ির সামনেই ধর্নায় বসেন মমতা। পরে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। মমতা-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে আটকের খবর অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
নেহা বোরাকে আটক, আইনজীবীদের বিষয়েও হস্তক্ষেপের দাবি
আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ বলে অভিযোগ। সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বহু আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। এই ঘটনায় শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন আবেদন জানিয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
বিজয়ন, ব্রিট্টাস ও বৃন্দা কারাটকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার দাবি
কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস এবং সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাটকে আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও।
আটক হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির
সিজেপির তিন শীর্ষনেতা-সহ বহু কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে নেতৃত্বকে আটক করলেও আন্দোলন থামবে না বলে স্পষ্ট করেছে দল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি নেতাদের অনুপস্থিতিতেও চালিয়ে যাওয়া হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আটক হওয়ার সময় সিজেপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে বলেন, “দেশে জরুরি অবস্থার সময়ে ইন্দিরা গান্ধীও এ রকম করেননি। আমরা গ্রেফতার হতে প্রস্তুত।” দলের তরফে প্রকাশ করা একটি আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিয়ো-বার্তায় দীপকে জানান, তিনি, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস আটক হলে আন্দোলনের দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যাবেন অজিঙ্ক শিন্দে।
মুম্বইয়ে আটক তুষার গান্ধী
সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগে মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। তাঁকে ডিএন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও মুম্বই পুলিশের হাতে তুষার গান্ধীর আটকের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ড্রোন ও বডিক্যামে নজরদারি
প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতিটি মুহূর্ত নথিবদ্ধ করতে ভিডিয়োগ্রাফার ও চিত্রগ্রাহক মোতায়েন করেছে পুলিশ বলে সূত্রের দাবি। বহু পুলিশকর্মীর শরীরে বডিক্যাম লাগানো হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা বলে সূত্রের ব্যাখ্যা।
এর আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সিজেপির আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। এ বার সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই পুলিশ সতর্ক বলে সূত্রের দাবি। আন্দোলনস্থল-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, যাতায়াতে বিধিনিষেধ
রাজধানীতে বড় জমায়েতের আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ শুরু হয়। প্রথমে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল। পরে নির্দেশিকা সংশোধন করে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন জানায়, শনিবার দিনভর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হবে। রাজীব চক, পটেল চক এবং কাশ্মীরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনও সেই তালিকায় রয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া যায় না—মেট্রো পরিষেবা নিয়ে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের এমন পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লিতে একের পর এক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীদের আটক করা এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য সামনে এলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।