বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে নানা জল্পনা চলছিল। বারবার শোনা যাচ্ছিল, কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন ফিরহাদ হাকিম। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল। শুক্রবার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিলেন কলকাতার মহানাগরিক।
ফিরহাদের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণও কার্যত তৃণমূলের হাতছাড়া হল বলে মনে করা হচ্ছে। ইস্তফার কিছুক্ষণ পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম। দল এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি সফলভাবে সামলেছেন। ২০১৮ সালে কলকাতা পুরসভার ৩৮তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রায় আট বছর ধরে সেই দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরও চেতলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন ফিরহাদ। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে শুভেন্দুর সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ এবং চা পানের প্রস্তাব ঘিরে দলের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্বও কিছুটা বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল।
সেই আবহেই ফিরহাদের ইস্তফা নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যই তাঁর সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
ফিরহাদের পদত্যাগের পর আপাতত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার চাইলে পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগেও হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের রাজনৈতিক সংকটের আবহে ফিরহাদ হাকিমের এই পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।