কলকাতা: নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর প্রথমবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ধর্মতলার লেনিন মূর্তি থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন তিনি। হকার উচ্ছেদ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর ‘আক্রমণ’ এবং ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতারের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, মিছিল শেষে সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও বক্তব্য না রেখেই মিছিল শেষ করে গাড়িতে উঠে চলে যান মমতা।
ভোটে পরাজয়ের পর থেকে সমাজমাধ্যম এবং সীমিত কর্মসূচির মাধ্যমেই বার্তা দিয়ে আসছিলেন তৃণমূল নেত্রী। গত ২ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেও হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এবার সেই ইস্যুকেই সামনে রেখে সরাসরি রাস্তায় নামলেন মমতা।
তবে একসময় ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে যে বিপুল জনসমাগম দেখা যেত, বুধবার তার ছাপ খুব একটা চোখে পড়েনি। মিছিলের প্রথম সারিতে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন-সহ কয়েকজন নেতাকে দেখা গেলেও দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা এবং কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল সীমিত।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সরকারি জমি ও সম্পত্তি দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি হকার উচ্ছেদ নিয়েও প্রশাসন সক্রিয়। এর প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী সংগঠনগুলি আন্দোলন চালিয়ে আসছে। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরোধিতায় ধারাবাহিক কর্মসূচিও নিয়েছে তারা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হকার উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব বর্তমানে অনেকটাই বামেদের হাতে চলে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মিছিল শুরুর আগে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছিল, হকার উচ্ছেদ ছাড়াও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতার’-এর বিষয়টিও তুলে ধরা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও জনসভা বা বক্তব্য না হওয়ায় মিছিলের রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনী ভরাডুবির পর তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বুধবারের মিছিলে সীমিত উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।