বুয়েনস আয়ার্স/বিশ্বকাপ ডেস্ক: বয়স ৩৯। বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে ছিল সংশয়। তিনি কি আগের মতো খেলতে পারবেন? কতক্ষণ মাঠে টিকবেন? সমালোচকদের সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন নিজের পায়ে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে জিতিয়ে দিলেন লিয়োনেল মেসি। আর সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখার লড়াইয়ে তাঁরা এখনও অন্যতম দাবিদার।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। কোচ লিয়োনেল স্কালোনি কোনও ঝুঁকি না নিয়ে প্রথম একাদশেই রাখেন মেসিকে। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা প্রমাণ হতে বেশি সময় লাগেনি।
ম্যাচের প্রথম দিকে অবশ্য আলজেরিয়া লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার চেষ্টা করছিল তারা। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
১৭ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করেন মেসি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর থ্রু বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকেই বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করেন তিনি। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা বল ছুঁয়েও গোল বাঁচাতে পারেননি।
গোলের পর আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। দ্রুত পাসিং, ওয়ান-টাচ ফুটবল এবং মেসির অনবদ্য মুভমেন্টে বারবার সমস্যায় পড়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়। ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি।
এরপর ৭৬ মিনিটে আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের বাইরে আবারও খানিকটা জায়গা পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক।
হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ হওয়ার পরই তাঁকে তুলে নেন স্কালোনি। বেঞ্চে বসে দলের বাকি সময়ের খেলা উপভোগ করেন মেসি। আর মাঠে থাকা সতীর্থরা সহজেই ৩-০ ব্যবধান ধরে রাখেন।
ম্যাচ শেষে ফুটবল মহলের একটাই আলোচনা—মেসি এখনও ফুরিয়ে যাননি। বরং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আরও একবার সেরার মুকুট মাথায় তুলতেই মাঠে নেমেছেন। আর আর্জেন্টিনাও জানিয়ে দিল, তাদের হারানো এখনও কোনও দলের পক্ষেই সহজ হবে না।