ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার রাজপথে নামতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে যখন প্রশ্ন উঠছে— কেন আক্রান্ত কর্মীদের পাশে শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি দেখা যাচ্ছে না, ঠিক সেই সময়েই বড় কর্মসূচির পথে হাঁটল রাজ্যের শাসকদল। আগামী ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে একদিনের অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেবেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে খবর, ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই শুরু হবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। প্রথম দিকে দলের একাধিক শীর্ষ নেতা মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। পরে দুপুরের দিকে আন্দোলনের মঞ্চে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আপাতত এই কর্মসূচিকে একদিনের ধরনা হিসেবেই ঘোষণা করা হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, ভয় দেখানো এবং হেনস্থার ঘটনা ঘটছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই এই অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলতে পারে দল।
অন্যদিকে, একই দিনে বীরভূমের নানুর সফরে যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি ভোট-পরবর্তী হিংসায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের আইনি সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিতে পারেন তিনি।
দলীয় কর্মীদের মনোবল ফেরানো এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাও অভিষেকের সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নির্বাচনের পর থেকে তাঁকে সরাসরি মাঠে খুব একটা দেখা যায়নি বলে দলের একাংশের মধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছিল।
এদিকে ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। তবে সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ ও স্লোগানের ঘটনাও সামনে আসে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। সব মিলিয়ে, ২ জুন তৃণমূলের এই দুই শীর্ষ নেতার পৃথক কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, এই কর্মসূচি ভোট-পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।