বিধানসভা ভোটের প্রচারে ঝাড়গ্রামে গিয়ে এক অন্য ছবি দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারসভা শেষে হেলিপ্যাডের পথে যাওয়ার সময় হঠাৎই কনভয় থামিয়ে কলেজ মোড়ের একটি ঝালমুড়ির দোকানে দাঁড়ান তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দোকান ঘিরে তৈরি হয় উৎসাহের আবহ, আর রাতারাতি চর্চার কেন্দ্রে চলে আসেন দোকানদার বিক্রমকুমার সাউ।
বিক্রমের আদি বাড়ি বিহারের গয়া। ছোটবেলায় কাজের খোঁজে বাংলায় এসে ঝাড়গ্রামেই নিজের জীবিকা গড়ে তোলেন। প্রথমে ঠেলাগাড়িতে ঝালমুড়ি, ছোলা ও বাদাম বিক্রি করতেন। পরে একটি ছোট গুমটি ভাড়া নেন। রাস্তা সম্প্রসারণের সময় সেই গুমটি ভেঙে গেলে সমস্যায় পড়েন তিনি-সহ বহু ব্যবসায়ী। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয় এবং স্থায়ী দোকানঘর পান বিক্রম।
রবিবার বিকেলে হঠাৎই সেই দোকানে পৌঁছে বিক্রমের সঙ্গে আলাপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নাম, বাড়ির ঠিকানা জেনে নিয়ে ঝালমুড়ি বানাতে বলেন। বিক্রম জানান, তিনি মোদীর পছন্দমতো পেঁয়াজ দিয়ে মুড়ি মেখে দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে সেই ঝালমুড়ি খান এবং আশপাশে উপস্থিত মানুষজনের হাতেও তুলে দেন। এমনকি ঝালমুড়ির দাম হিসেবে ১০ টাকাও দেন তিনি।
এই ঘটনা দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত সহজভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে দেখা তাঁদের কাছে এক অন্য অভিজ্ঞতা। উপস্থিত মহিলাদের কথায়, এমন দৃশ্য চোখের সামনে দেখা তাঁদের জন্য বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের আগে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে বিজেপির প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সভা শেষে ফেরার পথেই এই ‘ঝালমুড়ি ব্রেক’ নেন তিনি, যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে চর্চায়।