প্রথম পাতা খবর নওশাদের ‘খাম’ গেল ঋতব্রতদের হাতে, আইএসএফ পেল ‘আলমারি’! হুমায়ুনের ‘বাঁশি’র বদলে ‘টেবিল’

নওশাদের ‘খাম’ গেল ঋতব্রতদের হাতে, আইএসএফ পেল ‘আলমারি’! হুমায়ুনের ‘বাঁশি’র বদলে ‘টেবিল’

7 views
A+A-
Reset

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হল। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’কে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফকে দেওয়া হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক। একই ভাবে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত ‘বাঁশি’ প্রতীক বদলে এবার দেওয়া হয়েছে ‘টেবিল’।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় থেকে আইএসএফের একমাত্র বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। সেই নির্বাচনে নতুন দল হওয়ায় আইএসএফ স্থায়ী প্রতীক পায়নি। বিহারের রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টির ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে বাংলায় ভোটে লড়েছিল তারা। পরবর্তী পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনেও ওই প্রতীক ব্যবহার করে আইএসএফ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও নওশাদের দল ‘খাম’ প্রতীকেই লড়ে এবং নওশাদ ফের ভাঙড় থেকে জয়ী হন।

কিন্তু উপনির্বাচনের আগে সেই পরিচিত প্রতীকই এবার আইএসএফের হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী, নওশাদের দলকে ‘আলমারি’ প্রতীকে লড়তে হবে। শনিবারই এই প্রতীক বদলের কথা সামনে আসে।

প্রতীক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছেন নওশাদ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইএসএফের পক্ষ থেকে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে কমিশনের কাছে নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

হুমায়ুনের ‘বাঁশি’ও গেল

একই পরিস্থিতি হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ক্ষেত্রেও। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুনের দল ‘বাঁশি’ প্রতীক নিয়ে লড়েছিল। সেই প্রতীকেই রেজিনগর এবং নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন।

রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণে আগামী ৬ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। সেই উপনির্বাচনে হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিন এজেইউপির প্রার্থী। কিন্তু উপনির্বাচনে তাঁকে আর ‘বাঁশি’ প্রতীক দেওয়া হয়নি। তার বদলে ‘টেবিল’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে কমিশন। প্রার্থী নিজেও এই প্রতীক বদলের বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ‘টেবিল’ প্রতীকে লড়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নতুন দল গঠনের সময়ও ‘টেবিল’ প্রতীক তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিল।

তৃণমূলের প্রতীক-জটের মধ্যেই নতুন সমীকরণ

এই প্রতীক বদলের ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর। ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’—অর্থাৎ জোড়াফুল—প্রতীক সাময়িক ভাবে ফ্রিজ করে। দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়।

এর পর শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, তাদের প্রতীক ‘খাম’। এই বরাদ্দগুলি আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর।

ফলে একই ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়। কারণ এত দিন ওই প্রতীকেই আইএসএফ ভোটে লড়ে এসেছে। শনিবার কমিশনের নতুন বরাদ্দে সেই প্রতীক চলে যায় ঋতব্রত শিবিরের কাছে এবং আইএসএফকে দেওয়া হয় ‘আলমারি’।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এখন একাধিক দলের প্রতীকেই বদল এসেছে। ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে দুই কেন্দ্রে। তার আগে নতুন প্রতীক নিয়ে প্রচারে নামতে হবে আইএসএফ এবং এজেইউপি-সহ সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.