প্রথম পাতা খবর নেপালের হড়পা বানে এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন, চিনের সঙ্গে যোগাযোগের আর্জি নিয়ে নবান্নে পরিজনেরা

নেপালের হড়পা বানে এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন, চিনের সঙ্গে যোগাযোগের আর্জি নিয়ে নবান্নে পরিজনেরা

10 views
A+A-
Reset

কলকাতা: গত ২৬ অগস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে এখনও নিখোঁজ রাজ্যের ৩৭ জন পুণ্যার্থী ও পর্যটক। তাঁদের অনেকেই চিনা ভূখণ্ডে কোনও নিরাপদ শিবিরে রয়েছেন বলে আশায় দিন কাটাচ্ছেন পরিজনেরা। নিখোঁজদের দেশে ফেরাতে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে চিনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের আর্জি জানিয়ে এ বার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন পরিবারের সদস্যেরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ের পর রাজ্য থেকে মোট ৩৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে বসিরহাটের দু’জনকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানো সম্ভব হলেও এখনও ৩৭ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া কলকাতা, চন্দননগর এবং বর্ধমানের ৩২ জনের একটি দল। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পুণ্যার্থী এবং দু’জন ভ্রমণ সংস্থার কর্মী। ওই ৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা ৪৪ বছরের শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়।

চিনা ভূখণ্ডে থাকার আশায় পরিবার

নেপাল-চিন সীমান্তের রসুয়াগঢ়ী চেকপয়েন্টের কাছে হড়পা বান আছড়ে পড়ার পর থেকেই শর্মিষ্ঠা-সহ ওই দলের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২১ অগস্ট একাই নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা। ২৫ অগস্ট রাতে স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে শেষ বার তাঁর ফোনে কথা হয়। শুভ্রাংশুর দাবি, সরকারি নথি অনুযায়ী ২৬ অগস্ট সকাল ৮টার পর ইমিগ্রেশন পার হয়ে চিনের দিকে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। এর পর সকাল ৯টা নাগাদ চিনা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়।

শুভ্রাংশুর দাবি, হড়পা বান আছড়ে পড়ার আগেই প্রায় ৫০০ পর্যটককে বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁর অনুমান, শর্মিষ্ঠা-সহ বাংলার নিখোঁজ পর্যটকেরা চিনের ওই উদ্ধারকেন্দ্রেই থাকতে পারেন। তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই পরিবারের অনুমান।

ভ্রমণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

নিখোঁজদের পরিজনেরা ভ্রমণ সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শর্মিষ্ঠা ‘চলো যাই’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের দায়িত্ব নেয় ‘সম্রাট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল্‌স’। তিব্বত এলাকায় তাঁদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল ‘লাসা’ নামে একটি চিনা সংস্থা।

নিখোঁজদের অবস্থান সংক্রান্ত প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন ভিডিয়ো ও তথ্যের সত্যতা যাচাই করারও দাবি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু।

ভুয়ো প্রচারে ক্ষুব্ধ পরিবার

এদিকে শর্মিষ্ঠা ফিরে এসেছেন বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে—সমাজমাধ্যমে এমন ভুয়ো প্রচার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার। শুভ্রাংশুর বক্তব্য, সঠিক তথ্যের অভাবে পরিবার এমনিতেই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তার মধ্যে মিথ্যা প্রচার পরিস্থিতিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলছে।

সম্ভাব্য প্রতিটি সূত্র যাচাই করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতেই এ বার নবান্নে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিখোঁজ পর্যটকদের পরিজনেরা। তাঁদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে চিনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.