নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বার ‘সুপ্রিম কোর্ট চলো’ কর্মসূচি শুরু করলেন রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা। সোমবার কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বাসে চেপে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বাসটি বরাখাম্বা রোডে ছিল। সেখান থেকে তিলক মার্গে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্টের দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার। ওই পথ ধরে পায়ে হেঁটে এগোতে দেখা যায় কয়েকশো রাজনৈতিক কর্মীকে।
বাসে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব এবং লিবারেশন নেত্রী নেহা বোরা-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা।
কেন সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। তবে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করার আবেদন রবিবারই খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি।
সূত্রের খবর, বিরোধীদের আবেদনের জবাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছিলেন বিচারপতি কান্ত। তাঁর প্রথম যুক্তি, সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি নিয়ে একাধিক মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আদালতের বাইরে আলোচনা করা সম্ভব নয়।
দ্বিতীয়ত, এই ধরনের অভিযোগ বিবেচনা করা বা তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করার বিষয়টি আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে বিরোধীদের জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
তৃতীয়ত, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ-সহ প্রাসঙ্গিক বিধানের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিরোধীরা যদি এই অভিযোগগুলি নিয়ে আদালতে আবেদন বা মামলা করেন, তা হলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী শুনানির দিন বিষয়টি তালিকাভুক্ত করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন বিচারপতি কান্ত।
চতুর্থত, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ নাগরিক থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—সকলের জন্যই আদালতের দরজা খোলা।
‘সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা’
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, বিরোধী নেতাদের চিঠি তিনি পেয়েছেন এবং রবিবার রাতেই তার জবাব দিয়েছেন। তবে চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
বিচারপতি কান্ত বলেন, “আমি চিঠি পেয়েছি। রাতেই তার জবাব দিয়েছি। কেন দেখা করতে পারব না, কিছু কারণ জানিয়েছি। চিঠিতে কী আছে, সেটা বলব না। ওঁদের জিজ্ঞেস করে নিন।”
এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ নাগরিকদের প্রবেশাধিকার ও অধিকার রক্ষার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা আছে। সাধারণ মানুষ হোন বা নির্বাচিত সদস্য, যে কেউ যে কোনও আবেদন নিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারেন। ভারতের যে কোনও নাগরিকের অধিকার আছে আদালতে আসার। আইন অনুযায়ী আমরা তাঁদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব এবং তাঁদের অধিকার সুনিশ্চিত করব।”
প্রধান বিচারপতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও সোমবার কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেনি কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে তাদের এই অভিযান ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।