কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের গঠন ও ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আরও বেশি আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একাংশকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। এখন সেই ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে।
শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ শতবার্ষিকী হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এতদিন ইতিহাসকে চেপে রেখে মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। মানুষ আসল ইতিহাস জানতে চাইছে।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ১৯ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও। তিনি বলেন, কলকাতাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালন করা হবে। এই সময়কালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক মঞ্চে তাঁর জীবন, কর্ম ও ভাবনা নিয়ে আলোচনা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কোনও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তচিন্তার পরিসরে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হওয়া উচিত। তবেই ইতিহাসের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম সম্যক ধারণা পাবে।
রাজ্যের নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনেও রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।