শিলিগুড়ি: দার্জিলিংয়ের তীব্র যানজটের জেরে আপাতত পিছিয়ে গেল বেঙ্গল সাফারি ও পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কের মধ্যে বাঘ বিনিময়ের পরিকল্পনা। জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখতে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা থেকে একটি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনীকে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বেঙ্গল সাফারি থেকে একটি হলুদ-কালো ডোরাকাটা বাঘিনীকে পাঠানোর কথাও ছিল দার্জিলিংয়ে।
গত বৃহস্পতিবার এই বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। কারণ, বর্তমানে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়ে দার্জিলিংমুখী রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে যেখানে সাধারণত আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এখন সময় লাগছে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত।
বিশেষ করে জোড়বাংলো থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকছে। ফলে বাঘ পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিন করিডর তৈরি করলেও বিশেষ সুবিধা মিলবে না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বেঙ্গল সাফারির এক আধিকারিক জানান, গ্রিন করিডর থাকলে সাধারণত কম সময়েই বাঘ স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে জোড়বাংলো এলাকা থেকেই তীব্র যানজট শুরু হচ্ছে। ওই অংশ অতিক্রম করতেই তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। তাই আপাতত বাঘ পরিবহণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে রাজ্য জু অথরিটির আশা, চলতি মাসের মধ্যেই বাঘ বিনিময়ের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পর্যটকদের চাপ কিছুটা কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং তারপরই নতুন করে দিনক্ষণ ঠিক করে বাঘ স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জিনগত সমস্যার সমাধান ও প্রজনন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতেই এই বাঘ বিনিময় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে যানজটই সেই পরিকল্পনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।