বর্ষার দাপট আরও বাড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত এবং সক্রিয় বর্ষাকালীন অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালীন অক্ষরেখা বর্তমানে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি অংশ বাঁকুড়ার উপর দিয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম রাজস্থান থেকে সিকিম পর্যন্ত আর একটি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিমবঙ্গের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। এর জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যা বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কী পূর্বাভাস?
সোমবার কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। বৃহস্পতিবার নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গে তিন দিন প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা
সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবারও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং সমতলের নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য স্বস্তির খবর
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর আপাতত শান্ত রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।