কলকাতা: তোলাবাজি সংস্কৃতি একদিনে নির্মূল করা সম্ভব নয়। ক্ষমতায় আসার পরেও কোথাও কোথাও সেই প্রবণতা রয়ে গিয়েছে বলে স্বীকার করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার তিনি বলেন, “তোলাবাজির বিষয়টা থেকে তো যাবেই। সবাইকে তো আমরা ডিটার্জেন্ট বা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে আনিনি। তারা তো রক্তমাংসের মানুষ।”
তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরও কিছু ক্ষেত্রে একই অভিযোগ উঠছে। এ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, সরকারে আসার পর কেউ কেউ বেআইনি উপায়ে রোজগারের কথা ভাবতে পারেন। তবে দল এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বেআইনি টোল ট্যাক্স, বেআইনি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি মদের ঠেক সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য চারটি পৃথক হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেখানে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
তবে হেল্পলাইনের অপব্যবহার করলে রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার কথায়, “আপনি সামনে আসতে চান না, ফোন করে অভিযোগ জানান। কিন্তু নিজস্ব অ্যাজেন্ডা নিয়ে যদি কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন, আপনার নম্বরও তো থাকবে। আপনাকেও ধরা হবে।”
তোলাবাজির বিরুদ্ধে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, রাজ্য সভাপতি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তাঁর দাবি, “আমরা আগের সরকারের মতো নই। যা বলি, সেটাই করি।”
এদিন দলের কর্মীদেরও সতর্ক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, তোলাবাজি সংস্কৃতি রাতারাতি বন্ধ হবে না, তবে দল বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ২০০ থেকে ২৫০ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং আরও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
দিলীপ ঘোষ সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন, বিজেপির কোনও কর্মী তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকলে পুলিশ ও দলের কাছে অভিযোগ জানাতে।