পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান পুলিশ লাইন মাঠে প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষকদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণার হিসাবে, ধানের নির্ধারিত সহায়ক মূল্যের সঙ্গে কুইন্টাল প্রতি আরও ₹২০০ দেবে রাজ্য সরকার। ফলে কুইন্টাল প্রতি ধানের জন্য মোট ₹২,৭০০ পাওয়ার কথা কৃষকদের। শুক্রবার বর্ধমানে প্রশাসনিক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার অনুযায়ী, কৃষকদের কাছ থেকেই সরাসরি ধান কেনা হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনও মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। ধান বিক্রির ক্ষেত্রেও কোনও ঊর্ধ্বসীমা রাখা হবে না বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ₹২০ হাজার পাওয়ার কথা কৃষকদের।
বিদ্যুতে কুইন্টালে নয়, ইউনিটে ₹২ ভর্তুকি
কৃষিকাজে বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের জন্যও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের চার লক্ষের বেশি কৃষক প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ₹২ করে ভর্তুকি পাবেন। এতে বছরে কৃষকদের প্রায় ₹২৫ হাজার থেকে ₹৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। এই খাতে রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ₹৩০০ কোটি ব্যয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
PM-Kisan-এ কেন্দ্রের ₹৬ হাজারের সঙ্গে রাজ্যের আরও ₹৩ হাজার
প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের দেওয়া বছরে ₹৬,০০০-এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও ₹৩,০০০ দেবে। ফলে যোগ্য কৃষকের বছরে মোট আর্থিক সহায়তা দাঁড়াবে ₹৯,০০০। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ৫৪ লক্ষ কৃষক পরিবার উপকৃত হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের যাচাইয়ের কাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণার হিসাবে, এক শতক জমি থাকা কৃষকরাও বছরে এককালীন ₹৪,০০০ পাবেন। আবার প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির সুবিধা পান না এবং ৪০ শতকের বেশি কৃষিজমি রয়েছে—এমন কৃষকদের বছরে ₹৬,০০০ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আলুচাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ
আলুচাষিদের জন্য ভর্তুকি, সরকারি উদ্যোগে সার সরবরাহ এবং বিশেষ প্যাকেজের কথাও প্রশাসনিক সভা থেকে জানানো হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সমবায়, ক্ষুদ্র সেচ ও উদ্যানপালন ক্ষেত্রকেও আরও যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
১২৫ দিনের কাজের আওতায় ৩১৭ ধরনের কাজ
ভিবিজি-রামজি প্রকল্পের আওতায় ১২৫ দিনের কাজ নিয়েও ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গাছ লাগানো ও তার রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তা ও কালভার্ট তৈরি, পুকুর সংস্কার, আইসিডিএস কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল এবং সেচের কাজ-সহ মোট ৩১৭ ধরনের কাজ এই প্রকল্পের আওতায় করা যাবে।
প্রত্যেক জব কার্ডধারীকে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দৈনিক ₹৩০০ মজুরি এবং বছরে সর্বোচ্চ ₹৩৪,৫০০ পর্যন্ত পাওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন
প্রশাসনিক সভা থেকে ভাতারের মহাচন্দায় ₹১২৩ কোটি ব্যয়ে নির্মিত সাবস্টেশন উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হুগলির ধনেখালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এবং বিষ্ণুপুরের দৌলতপুরে আরও তিনটি সাবস্টেশনের উদ্বোধন করা হয়।
এছাড়াও ₹১৩ কোটি ব্যয়ে মেমারি-তারকেশ্বর রোডে নির্মিত নতুন সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে আয়ুষ্মান প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা ৩৩ লক্ষ ১৫ হাজার ১৭ হবে বলেও সভায় জানানো হয়েছে।
শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে একসঙ্গে কৃষি, বিদ্যুৎ, কৃষক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে এই ঘোষণাগুলি সামনে এসেছে।