শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে জমি দেওয়ার নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। চূড়ান্ত জমিনীতি তৈরির আগে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত অংশীদারের মতামত নিতে আগামী মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। ইতিমধ্যেই ১৫ আগস্টের মধ্যে শিল্পনীতি ও জমিনীতি নিয়ে প্রাথমিক খসড়া তৈরির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে ১১ আগস্টের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে শিল্প সংক্রান্ত এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৈঠকের কথা ঘোষণা করেন শিল্পমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি রাজীব সিং, কুলভূষণ আগরওয়াল এবং পার্থিব নেওটিয়া-সহ শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা।
তাপস রায় বলেন, “১১ আগস্ট নবান্নে সব অংশীদারদের নিয়ে বৈঠক। রাজ্যের চূড়ান্ত জমিনীতি প্রকাশ্যে আনার আগে সকলের কাছে এই নিয়ে মতামত চাওয়া হবে। আপনাদের সবাইকে বৈঠকে স্বাগত।”
শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতেই নীতিতে বদল
শিল্পমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শিল্পক্ষেত্র অবহেলিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারগুলির আমলে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা, ল্যান্ডব্যাঙ্ক এবং উপযুক্ত ইনসেনটিভ নীতির অভাব ছিল। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
তাপস রায়ের দাবি, ৬,৬৮৮টি ছোট-বড় সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির জন্য দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও জোর দেন তিনি।
সিঙ্গল উইন্ডো, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোয় জোর
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বাণিজ্যনীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত ইনসেনটিভ, পরিকাঠামো এবং দ্রুত প্রশাসনিক পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার কথাও জানান তিনি।
তাঁর দাবি, মিৎসুবিশি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইউরোপের সঙ্গেও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।
একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট চার্জ ও তোলাবাজি নিয়েও সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। শিল্পপতিদের রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পপতিরাই নিয়োগকর্তা এবং সরকার বাংলার উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে তাঁদের পাশে রয়েছে।
১৫ আগস্টের ডেডলাইন কি পিছোবে?
আগেই ১৫ আগস্টের মধ্যে জমিনীতি ও শিল্পনীতির প্রাথমিক খসড়া তৈরির সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ১১ আগস্ট সমস্ত অংশীদারকে নিয়ে বৈঠক ডাকায় জমিনীতি চূড়ান্ত করার কাজে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে শিল্পমহলের একাংশের ধারণা।
১১ আগস্টের বৈঠকে শিল্পপতি ও অন্যান্য অংশীদারদের মতামত কতটা নীতিতে প্রতিফলিত হয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।