প্রথম পাতা খেলা প্রায় ১০ বছর পর চিনি আমদানির পথে ভারত, ইথানল উৎপাদনের ধাক্কায় বাজারে সংকট

প্রায় ১০ বছর পর চিনি আমদানির পথে ভারত, ইথানল উৎপাদনের ধাক্কায় বাজারে সংকট

4 views
A+A-
Reset

প্রায় এক দশক পর ফের চিনি আমদানির পথে হাঁটতে পারে ভারত। দেশের বাজারে চিনির জোগান ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টন চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। উৎসবের মরশুমের আগে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে।

ভারত এতদিন শুধু চিনি উৎপাদনে স্বনির্ভরই ছিল না, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চিনি বিদেশেও রপ্তানি করত। বিশ্বের মোট চিনির চাহিদার একটি বড় অংশ ভারতীয় বাজারেই। সেই ভারতকেই এবার অভ্যন্তরীণ জোগানের ঘাটতি মেটাতে বিদেশের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির পরিকল্পনা করছে। আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক না রাখার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, অতিরিক্ত সরবরাহের মাধ্যমে দেশের বাজারে চিনির দাম কিছুটা কমানো। কারণ সামনে দুর্গাপুজো, দীপাবলির মতো একাধিক বড় উৎসব। এই সময়ে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

চিনির দাম বাড়লে শুধু সাধারণ ক্রেতাই নন, সমস্যায় পড়তে পারেন মিষ্টি ব্যবসায়ী এবং খাদ্যপ্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও। কারণ বিস্কুট, মিষ্টি, পানীয়-সহ একাধিক খাদ্যপণ্যের উৎপাদন খরচের সঙ্গে চিনির দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এ বছর চিনির উৎপাদন কমতে পারে, সেই আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। অনিয়মিত বর্ষার কারণে আখের উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। তার সঙ্গে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে ইথানল উৎপাদন। দেশে ইথানলের জোগান বাড়াতে গত কয়েক বছরে আখ থেকে ইথানল তৈরির কারখানা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিয়েছে কেন্দ্র।

ইথানল তৈরিতে বিপুল পরিমাণ আখের রস প্রয়োজন হয়। ইথানল কারখানাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে আখ কেনায় চিনি কলগুলিতে আখের সরবরাহ কমছে বলে দাবি শিল্পমহলের। এর প্রভাব পড়ছে চিনির উৎপাদনে। একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে বাজারে চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম ঊর্ধ্বমুখী।

মঙ্গলবার দেশের অন্যতম বড় চিনি উৎপাদন কেন্দ্র মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে কুইন্টালপ্রতি চিনির দাম ৫,৪০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। চলতি মরশুমে এটিই সর্বোচ্চ বলে জানা যাচ্ছে। সারা দেশে পাইকারি বাজারে চিনির গড় দাম প্রায় ৫২.৩ টাকা কেজি। খুচরো বাজারে সেই দাম আরও বেশি। দেশের বিভিন্ন শহরে মঙ্গলবার চিনির দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজির মধ্যে ছিল।

সরকারের আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও এক ধাক্কায় দাম অনেকটা কমবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কুইন্টালপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আরও চিনি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র।

এদিকে ভারত চিনি আমদানি করতে পারে—এই খবর আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। কারণ অন্যান্য বছর বিশ্বের চিনির চাহিদার প্রায় ৮-১২ শতাংশ সরবরাহ করে ভারত। ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় চিনি উৎপাদক দেশ যখন আমদানির কথা ভাবছে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.