দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ভবানীপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। হুগলির উত্তরপাড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে বাইরে থেকে লোক ঢোকানো হয়েছে ভোটে প্রভাব ফেলতে। তাঁর দাবি, বাসে করে বহিরাগতদের এনে এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটের গতি ধীর করার চেষ্টা চলছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং ভোটারদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে।
ভবানীপুরকে ঘিরে এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, এই কেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রীর নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ফলে এই এলাকায় ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
প্রচারের মঞ্চ থেকে মমতা আরও দাবি করেন, ভোটের আগে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়েও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমেও ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে বিজেপি। প্রথম দফার উচ্চ ভোটদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসআইআর ও এনআরসি-র আশঙ্কায় মানুষ ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছেন। ভবানীপুর-সহ দক্ষিণ কলকাতার এই কেন্দ্রগুলিতে দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে।